শায়খ মহিউদ্দিন ফারুকি
মাদরাসার কাজ মাদরাসা করবে, স্কুলের কাজ স্কুল করবে। পাশাপাশি দুটোর মাঝেই সমন্বয়ের জন্য ফরজে আইন স্তরের কিছু পড়াশোনা থাকবে। মাদরাসায় থাকবে প্রয়োজনীয় জেনারেল শিক্ষা। স্কুলে থাকবে প্রয়োজনীয় ইসলাম শিক্ষা। এই সমন্বয়টা ৮০/২০ থিওরিতে চলবে। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কাজে যত্নবান হবে। যার যার অঙ্গনে তারা নিজেদের ভূমিকা রাখবে শক্তিশালীভাবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ সব দোষ মাদরাসাতেই দেখে। মাদরাসায় রোবটিক পড়াশোনা নেই। তারা মিসাইল বানাতে পারে না। সেখান থেকে কেন ডাক্তার হয় না? ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী কেন মাদরাসা থেকে বের হয় না?
বিভিন্ন দেশের সুন্নতি ড্রেস গায়ে স্কুলের কাউকে এমনকিছু করতে দেখলেই আমাদের মাদরাসা পড়ুয়া তরুণরাও আক্ষেপ করতে শুরু করে। মাদরাসা শিক্ষার দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে থাকে।
বিষয়টি বড় আশ্চর্যের!
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের মাদরাসা সিলেবাসে বিরাট উন্নতি ও পরিবর্তন প্রয়োজন। কাঠামো ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন, পরিমার্জন প্রয়োজন। আধুনিক অনেক বিষয়ে জরুরি পাঠের আয়োজন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু তাই বলে স্কুলের ফলাফল মাদরাসা থেকে চাই না। মাদরাসার ফলাফল স্কুল থেকে চাই না।
আমার প্রত্যাশা, মাদরাসার ছেলেরা ভালো ফকীহ হোক। মানসম্মত মুহাদ্দিস হোক। দক্ষ ভাষাবিদ হোক। সচেতন দাঈ হোক। কিন্তু আমি চাই না, তারা ইসলামিক পড়াশোনার পাশাপাশি হালকা পাতলা জেনারেল পড়ে হাতুড়ে ডাক্তার আর হাতুড়ে ইঞ্জিনিয়ার হোক। বিজ্ঞানের প্রাথমিক পাঠ দিয়েই তারা আইনস্টাইন সাজুক।
অন্যদিকে আমার প্রত্যাশা স্কুল কলেজের ছেলেরা ভালো ডাক্তার হোক। দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হোক। অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী হোক। পাশাপাশি তারা সুন্নতি পোষাক, দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান এবং জীবনের প্রতিটি ধাপে দ্বীন পালন করুক। কিন্তু চাই না একটু দ্বীনি পড়া পড়েই তারা পোশাক-আশাক গায়ে জড়িয়ে ইসলামিক স্কলার সাজুক। আমি চাইনা একটু আধটু আরবি পড়েই তারা গভীর বিষয়ে মতামত দিক। কোনোরকম হালকা জানাশোনা দিয়েই বিরাট স্কলারের বেশ ধরুক।
চাওয়ার প্রথম অংশটি বাস্তবায়িত হলে আমরা সমাজের সবাই উপকৃত হবো। কিন্তু দ্বিতীয় অংশটি বাস্তবায়িত হতে গেলেই তা হবে সবার জন্য বিরাট খাতরার কারনণ। দেশ ও জাতির জন্য তা হবে ধ্বংসাত্মক।
প্রতিটি শিক্ষাব্যবস্থা তার অঙ্গনের চাহিদা যথাযথ পূরণ করলেই সেটি হবে সঠিক শিক্ষাব্যবস্থা। মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা।
লেখক : শিক্ষাবিদ ও দাঈ




