হামাস, ইসরাইল, প্রতিরোধ কৌশল,

হামাসের নতুন প্রতিরোধ কৌশলে দিশেহারা ইসরাইলি সেনাবাহিনী

টুডেনিউজ ডেস্ক

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের কৌশলগত পরিবর্তন ইসরাইলি সামরিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইসরাইল হায়োম সংবাদপত্র এক সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলি সেনাদের অপহরণের উদ্দেশ্যে প্রতিরোধের চেষ্টা সম্প্রতি বেড়ে গেছে। নতুন এই কৌশল ইসরাইলি সামরিক নেতৃত্বকে বিস্মিত করেছে। তারা এখন এই সঙ্কট মোকাবেলায় নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের দিকে এগোচ্ছে।

সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, প্রতিরোধ শক্তি বর্তমানে এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যা আত্মত্যাগমূলক অভিযানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। একইসাথে প্রতিরোধ সদস্যরা ইসরাইলি বাহিনীর আরো নিকটবর্তী অবস্থানে সাহসিকতার সাথে পৌঁছাচ্ছে। পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট আক্রমণের বদলে ইসরাইলি বাহিনী এখন গাজার শহরগুলোর কেন্দ্রস্থলে প্রতিরোধের ঘাঁটিগুলো ঘিরে ধরে অবিরাম উপস্থিতি বজায় রাখার কৌশল নিচ্ছে।

তবে এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরোধ বাহিনী তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। সম্প্রতি খান ইউনিসে একটি ঘটনা বিশেষভাবে ইসরাইলি বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেখানে প্রতিরোধ যোদ্ধারা একটি সেনাবাহিনীর গাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং বুলডোজার চালানো অবস্থায় থাকা রিজার্ভ ফার্স্ট সার্জেন্ট আব্রাহাম আজুলাইকে অপহরণের চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়।

ইসরাইলি নিরাপত্তা মূল্যায়ন অনুসারে, এই ধরনের অপহরণের প্রচেষ্টা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিরোধ বাহিনী ইসরাইলি সেনাদের মোতায়েন কৌশলে দুর্বলতা খুঁজে বের করে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

এই প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি অভিযানের পরে নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি অপারেশনাল শিক্ষা গ্রহণের বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে, যেন হতাহতের ঘটনা এড়ানো যায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

তবে প্রতিরোধের বিভিন্ন অপারেশন কৌশল সেনা কমান্ডারদের মধ্যে দ্বিধার জন্ম দিয়েছে। এখন মূল প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে বাসা বাড়িতে অভিযান অব্যাহত রাখা কতটা নিরাপদ, বিস্ফোরক পেতে রাখা এলাকায় প্রবেশের ঝুঁকি কতটা, এবং সাঁজোয়া যানগুলো কিভাবে আরো ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়।

ইসরাইলি চ্যানেল ১২-তে সাবেক আইডিএফ অপারেশন প্রধান ইসরাইল জিভ সতর্ক করে বলেছেন, ‘গাজায় গেরিলা যুদ্ধ ভয়াবহ এবং এতে আমাদের সেনাবাহিনীর অর্জন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি যেখানে লক্ষ্যগুলো নিজের মধ্যেই পরস্পরবিরোধী। আমাদের বাহিনী সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। আর হামাস হিট-অ্যান্ড-রান কৌশল ও বজ্রগতির আক্রমণের মাধ্যমে এই দুর্বলতা কাজে লাগাচ্ছে।’

তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত তা ‘বিজয়ের খালি স্লোগান ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তমূলক ফলাফল’ নাও আনতে পারে।

চলতি বছরের মার্চে গাজায় ইসরাইলি অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে অ্যাম্বুশ ও স্নাইপার আক্রমণে কমপক্ষে ৩৮ জন ইসরাইলি সেনা নিহত এবং ৯৮ জন আহত হয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৫০ জন এবং আহত হয়েছে ১১৮ জন।

ইসরাইলি সামরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষদিকে স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে মোট ৪৪৪ জন সেনা নিহত এবং ২,৭৬৮ জন আহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর দাবি, প্রকৃত ইসরাইলি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top