ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন, হামাস, ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার সূত্রপাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর শিকড় ফিলিস্তিনে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শেখ আহমেদ ইয়াসিন এবং গাজার বেশ কয়েকজন মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা।
মতাদর্শ ও লক্ষ্য
হামাসের আদর্শ ইসলামের উপর ভিত্তি করে। এটি ইসরাইলি দখলদারিত্ব থেকে ফিলিস্তিনকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে এবং সমস্ত ফিলিস্তিনি মাটিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আন্দোলন সশস্ত্র প্রতিরোধকে তার লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম উপায় হিসেবে বিশ্বাস করে। যদিও এটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে, তবুও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি এবং ১৯৬৭ সালে দখলকৃত অঞ্চলে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে।
সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব
হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করে শুরা কাউন্সিল, এবং রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক বিষয় পরিচালনা করে রাজনৈতিক ব্যুরো। খালেদ মেশাল ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ছিলেন। এরপর ইসমাইল হানিয়া পদটি গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হানিয়ার হত্যার পর ইয়াহিয়া সিনওয়ার নেতৃত্ব নেন, তবে তিনিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে শহীদ হন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা
হামাস ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক জীবনে নির্বাচনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। ২০০৬ সালের ফিলিস্তিনি আইন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ফাতাহকে সরিয়ে দিয়ে সরকার গঠন করে। পরে ফাতাহের সঙ্গে সংঘর্ষের পর হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। গাজার সামাজিক পরিষেবাগুলির অধিকাংশ—শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক ত্রাণ—হামাস পরিচালনা করে।
ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি সংঘাত
হামাস ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকারী অন্যতম প্রধান ফিলিস্তিনি দল। এর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে বহু যুদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ সংঘাত শুরু হয় ৭ অক্টোবর, ২০২৩-এ অপারেশন ফ্লাড অফ আল-আকসা দ্বারা। হামাস গাজা অবরোধ সত্ত্বেও সামরিক শক্তি বজায় রেখে ইসরাইলি ভূখণ্ডে অভিযান চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমর্থন
কাতার, ইরান ও তুরস্কসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক দেশ হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্দোলন আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি।
সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ
হামাসকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার ও ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক ভূখণ্ড ছাড়ার জন্য চাপ দিয়ে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় দেশ এই চাপের প্রধান উৎস।
ভবিষ্যৎ
হামাসের ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন এবং অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত। আন্দোলন তার রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং গাজার অবরোধ ভাঙার জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করছে। অভ্যন্তরীণ পুনর্মিলন ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
হামাসের মতবাদ কী?
হামাস ইসলামী নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সুন্নি আন্দোলন। এটি ১৯৭৯ সালে মিশরে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করে।
হামাস এবং ইজ্জউদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের পার্থক্য কী?
হামাস রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত, আর ইজ্জউদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেড হল এর সামরিক শাখা।
হামাসের সদস্য সংখ্যা কত?
নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায় না, তবে ফিলিস্তিনের ভেতরে ও বাইরে এর ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে।
হামাসের নেতা কে?
২০২৪ সালে ইসমাইল হানিয়ার হত্যার পর ইয়াহিয়া সিনওয়ার নেতৃত্ব নেন।
হামাসের সামরিক শক্তি কত?
হালকা ও মাঝারি অস্ত্র থেকে শুরু করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রকেট পর্যন্ত বিভিন্ন সামরিক ক্ষমতা রয়েছে।
৭ অক্টোবর হামাস কতজনকে হত্যা করেছে?
ইসরাইলি সেনাবাহিনী ১,২০০ জনের মৃত্যুর ঘোষণা দেয়, যার মধ্যে বেসামরিক ও সৈন্য উভয়ই রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা মুবাশ্বের




