মাসুম বিল্লাহ
সম্প্রতি মুকাওয়ামার অলিভ অপারেশনের ভিডিওতে একটি দৃশ্য অনেক মানুষের দৃষ্টি কাড়ে— একজন যোদ্ধা তার কাঁধ ও মাথায় একটা কম্বল জড়িয়ে রেখেছিল! এই ব্যাপারটা অনেকবারই দেখা গেছে, এমনকি আবু ইব্রাহীম সিনওয়ার রহ.–এর সঙ্গেও!!
কিন্তু সত্য হলো, এই ছোট্ট কাজটির পেছনে লুকিয়ে আছে এক আশ্চর্যজনক সামরিক বুদ্ধিমত্তা।
প্রথমত: নজরদারি যন্ত্র ও থার্মাল ক্যামেরা:
এগুলো সাধারণত মানুষের অবয়ব খোঁজে: মাথা আর কাঁধ হলো সবচেয়ে পরিষ্কার ভিজ্যুয়াল ছাপ।
যখন যোদ্ধা মাথা ও কাঁধ কম্বলে ঢেকে ফেলে, তখন তার আকৃতি ধ্বংসস্তূপের ভেতর মিশে যায়…
ক্যামেরার চোখে সে আর মানুষ হিসেবে আলাদা হয়ে ওঠে না, বরং এক অচেনা অবয়ব হয়ে যায়।
এভাবে সে প্রযুক্তির চোখের সামনে দিয়েই চলে যায়, অথচ কেউ তাকে দেখতে পায় না।
দ্বিতীয়ত: তাপীয় ছদ্মবেশ:
পুরু কম্বলের কাপড় দেহের তাপ ছড়িয়ে দেয়, ফলে ইনফ্রারেড ক্যামেরা বিভ্রান্ত হয় এবং তাপীয় সংকেত ধরা পড়ে না। সহজ ভাষায়, কম্বল হয়ে ওঠে এক “নিঃশব্দ ঢাল”—দখলদারের সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রের বিরুদ্ধেও।
তৃতীয়ত: পরিবেশে মিলিয়ে যাওয়া:
কম্বলের মলিন, ধুলো-মাখা রং তাকে চারপাশের ধ্বংসস্তূপ, ধুলো আর ধোঁয়ার সাথে মিশিয়ে দেয়।
কোনো ইউনিফর্ম নেই, চোখে পড়ার মতো কোনো সাজ নেই… শুধু একটা ছায়া, যে বিশৃঙ্খলার ভেতরে মিলিয়ে যায়।
চতুর্থত: ব্যবহারিক দিক:
কম্বল শুধু ছদ্মবেশই নয়, এটি এক টিকে থাকার উপকরণও— রাতের ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করে…
অস্ত্র বা গুলিকে আড়াল করে নিয়ে যাওয়া যায়।
শুয়ে পড়ার মুহূর্তে যোদ্ধাকে ও তার অস্ত্রকে লুকিয়ে ফেলে, আর সেটা হতে পারে বেঁচে থাকার নির্ণায়ক সময়।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতীকী দিক।
যখন তুমি একজন যোদ্ধাকে কম্বলে মোড়ানো দেখতে পাও, মনে হয় সে যেন সদ্য নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। কোনো দামি পোশাক নেই, উন্নত সরঞ্জামও নেই… শুধু একটা পুরোনো কম্বল, যা তার হাতে রূপ নেয় ছদ্মবেশের অস্ত্রে, চ্যালেঞ্জের পতাকায়, আর সুরক্ষার ঢালে।
এটাই শত্রুর জন্য বার্তা: “আমাদের হাতে যতটুকুই আছে, তাই দিয়েই আমরা তোমাদের জটিলতম প্রযুক্তিকে পরাজিত করি।”




