হিজাবি, হিজাব, নন-হিজাবি, হিজাবি বোন, পর্দা

হিজাবি বোনের নাসিহাহ ও সওয়াব

রেবেকা জামান বিভা

কোনো হিজাব করা মেয়ে হঠাৎ কোন কারণে একদিন হিজাব না করলে নন-হিজাবি মেয়েরা বলে, ‘এই তুমি হিজাব করো নি কেন আজ?’ আর এটা শুনে হিজাবি মেয়েটা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলে, ‘আমি তো হিজাব করিই, আজ করি নি। আর তুমি তো সবসময়ই বেপর্দা চলো। তাই তুমি আমাকে বলার কে?!’

এমন সিচুয়েশন আমরা কম বেশি অনেকেই ফেইস করেছি। আমি হিজাব শুরু করার পর (তখনো পর্দার সঠিক বুঝ পুরোপুরি হয় নি), কিছু প্রোগ্রামে হিজাব ছাড়া গেছি। কজন মেয়ে তখন আমাকে দেখেই বলেছিল, ‘এই, তোমার হিজাব কই।’ আলহামদুলিল্লাহ, ভদ্রতা বজায় রেখে আমি জাস্ট চুপ ছিলাম৷ (মনে মনে বলেছিলাম, আসলেই তো হিজাব করি নি আজ, কি জবাব দিব?) তাদেরকে পাল্টা বলি নি, মুসলিম তো তুমিও, তোমার হিজাব কই!

প্রায়ই এসব ভাবি আর চিন্তা করি, সেদিন তাদের কথাগুলোর কারণেই হয়তো আমি ‘পর্দা’ করার ব্যাপারে আরো সচেতন হতে পেরেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ, পর্দা নিয়ে অনেক লেখা পড়েছিলাম, আল্লাহর কাছে দু’য়া চেয়েছিলাম।

আজ আমার পর্দা করার কারণে আল্লাহ যদি আমাকে সওয়াবের ভাগীদার করেন, তবে যেই মেয়েরা আমাকে পর্দার ব্যাপারে বলেছে, তারাও এই সওয়াবের ভাগীদার হবেন। ইনশা আল্লাহ৷ তবে কটাক্ষ করাই যাদের উদ্দেশ্য, তাদের প্রতি বলতে চাই: পর্দা কেবল হিজাবী বোনদের জন্য নয়, সবার জন্যই ফরজ। মানুষ ভুল করে। ভুল করতে করতেই শেখে। তাই কাউকে ভুল করতে দেখলে তাকে কটাক্ষ নয়, নাসিহাহ করা উচিত।

হাদিসে এসেছে: হজরত আবু হুরায়রা (রা:) বর্ণনা করেন, নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ‘কেউ হেদায়েতের (কল্যাণের) দিকে ডাকলে; যে কয়জন ব্যক্তির তার অনুসরণ করবে, তার ডাকে সাড়া দেবে; তাদের প্রত্যেকের সওয়াবের সমান অধিকারী সে (আহ্বানকারী) হবে। তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না।

পক্ষান্তরে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো (কাউকে) বিভ্রান্তির দিকে আহ্বান করে তবে যত মানুষ তার অনুসরণ করবে, তাদের সবার পাপের সমপরিমাণ পাপ সে ব্যক্তি লাভ করবে। তবে এতে অনুসরণকারীদের পাপেরও কোনো ঘাটতি হবে না।’ (মুসলিম)

হজরত আবু হুরায়রা (রা:) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ভালো কথা বলাও সাদকাহ।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, রিয়াদুস সালেহিন)

যাইহোক হিজাবি বোনেরা, নন হিজাবি কেই আপনার পর্দা না করার ব্যাপারে কিছু বললেই তার উপর চড়াও হয়ে যাবেন না। ভবিষ্যতে আপনার পরিপূর্ণ পর্দা করার পেছনে হয়তো তাদের সেদিনের মন্তব্যই অনেক গুরুত্ব রাখবে৷

সালাতে নিজের পর্দার জন্য দু’য়া করার সাথে সাথে অন্য সকল নন হিজাবি বোনদের জন্যও দু’য়া করুন। আপনার দু’য়ার উসিলাম তারা যদি পর্দা করা শুরু করেন, তবে সেই সওয়াবের ভাগীদার আপনিও হবেন। ইনশা আল্লাহ৷

কুরআনে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন: মুমিন পুরুষ ও নারী তারা পরস্পরের বন্ধু শুভাকাঙ্খী। তারা ভালকাজের আদেশ করে এবং মন্দকাজের নিষেধ করে। তারা আল্লাহকে মান্য করে, তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। তারা এমন মানুষ যাদের প্রতি আল্লাহ দয়া করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়’ (তওবা ৭১)।

সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা করো। মন্দ কর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা কোরো না। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ আজাব প্রদানে কঠোর।’ (সুরা মায়েদা: ২)

হুযাইফাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী (সা:) বলেন, তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ আছে! তোমরা অবশ্যই ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে, তা না হলে শীঘ্রই আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের উপর আযাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দু’আ করবে; কিন্তু তা কবুল করা হবে না। (আহমাদ, তিরমিযী ২১৬৯, সহীহুল জামে ৭০৭০)

যে কোন সম্প্রদায়ে যখন পাপাচার চলতে থাকে, তখন তারা প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও যদি বন্ধ করার লক্ষ্যে কোন চেষ্টা-সাধনা না করে, তাহলে আল্লাহ ব্যাপকভাবে তাদের মাঝে আযাব প্রেরণ করে থাকেন। (সহীহ ইবনে মাজাহ ৩২৩৮)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top