ইসরাইল সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে ইয়েমেন থেকে নিক্ষিপ্ত হুথিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্রে বিদারণযোগ্য (ফ্র্যাগমেন্টেশন) ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি কেবল আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়ায় না, বরং লক্ষ্যবস্তু এলাকাকে দীর্ঘ সময় ধরে বিপজ্জনক করে রাখে। ফলে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ আরও জটিল হয়ে ওঠে।
কীভাবে কাজ করে এই ক্ষেপণাস্ত্র?
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র মূলত দুটি উন্নত প্রক্রিয়ায় কাজ করে—
১. আঘাতের আগে বিস্ফোরণ: ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর ওপরে গিয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং ছোট ছোট সাব-ওয়ারহেড ছড়িয়ে দেয়, যা বিস্তৃত এলাকাজুড়ে আঘাত হানে। এতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিহত করা কঠিন হয়।
২. আঘাতের পর সাব-বোমা ছড়ানো: মাটিতে আঘাত হানার পর ওয়ারহেডটি সাব-বোমায় পরিণত হয়, যা সময়-নির্ধারিত মাইন হিসেবে কাজ করে। ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী বিপদ সৃষ্টি হয়, যার অপসারণে বিশেষ সামরিক প্রকৌশল দল প্রয়োজন।
এতে বোঝা যায় যে এই প্রযুক্তি শুধু ধ্বংসাত্মক নয়, কৌশলগত বিভ্রান্তি তৈরি করতেও কার্যকর।
কেন ইসরাইল সতর্ক হলো?
ইসরাইলি সামরিক সূত্র বলছে, হুথিদের হাতে এই অস্ত্র থাকা ইঙ্গিত দেয় যে তারা বহিরাগত সহায়তা—বিশেষত ইরান—থেকে উন্নত প্রযুক্তি পাচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনী অভিযোগ করেছে, হুথিরা ইরানের নির্দেশনা ও অর্থায়নে কাজ করছে এবং ইসরাইল ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে হুথিরা জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান মূলত গাজায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে সমর্থন করার জন্য।
প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা হামলা
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরাইল রাজধানী সানার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—তেল কোম্পানির স্টেশন, হাজিজ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রপতি প্রাসাদ কমপ্লেক্স—লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ইয়েমেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ৬ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা
গবেষক আলী আল-ধাহাবের মতে, এই ধরনের উন্নত অস্ত্র আগে প্রধান শক্তিগুলির কাছে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলির হাতে এর উপস্থিতি সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। এটি শুধু সামরিক ভারসাম্য নয়, আঞ্চলিক প্রতিরোধের প্রচলিত সমীকরণকেও পরিবর্তন করতে পারে।
সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার বা ফ্র্যাগমেন্টেশন ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত ইসরাইলের সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর বা রাজনৈতিক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হয়। এর একাধিক সাব-ওয়ারহেড একযোগে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্ষতির পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
হুথিদের হাতে বিদারণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রবেশ শুধু ইসরাইলের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের জন্যই নতুন সংকেত। এটি ইরানের ভূমিকাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে এবং প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক সংঘাত এখন এমন অস্ত্র প্রযুক্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা পূর্বে শুধু বৈশ্বিক শক্তিগুলির কাছে ছিল।
সূত্র : আল জাজিরা নেট




