শাহবাগী, আওয়ামী লীগ,

হু ইজ শাহবাগী?

দিপ্র হাসান
শাহবাগের জামানায়, যখন শাহবাগের বিরুদ্ধে কথা কওয়ার লোক অনলাইনে খুঁইজা পাওয়া যাচ্ছিল না। যখন গুটিকয় বিপ্লবী স্রোতের বিরুদ্ধে খাঁড়ায়া শাহবাগের বিরুদ্ধে কিবোর্ড কাঁপাচ্ছিল। যখন আজকের পিনাকিরাও আওয়ামী রাজনীতির সমর্থক ছিল তখনকার একজন বিপ্লবী হিসাবে দ্য গ্রেট হাসানের উপর দায়িত্ব বর্তায় শাহবাগী শব্দটার সঙ্গা ক্লিয়ার করা।
তার আগে আমি আপনাদের একটি আদর্শ সঙ্গার সঙ্গা ক্লিয়ার করি। সঙ্গা হইতে হইবে এমন যার মাধ্যমে এমন সব বিষয়কে খারিজ করা হবে যা মূলত সঙ্গায়িত বিষয়টি নয় আবার এমন সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে যা মূলত সঙ্গায়িত বিষয়টি। অর্থাৎ শাহবাগী শব্দটার আদর্শ সঙ্গা হবে সেটি যা দ্বারা শাহবাগীর বাইরের লোকদের এখান থেকে বের করবে এবং এখানে যতধরণের লোক থাকার কথা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
মূল সঙ্গায় যাওয়ার আগে আমরা আরেকটা শব্দের সাথে পরিচিত হব। সেটি হল, শাহবাগীয়তাবাদী। যে সব জাতীয়তাবাদী শাহবাগের সাপোর্টার ছিল তাদেরকে আমরা শাহবাগীয়তাবাদী বলতাম। অর্থাৎ জাতীয়তাবাদীরা পিউর শাহবাগী না। এরা নিজের ঘর লুট হওয়ার পর লুটেরাদের আনন্দে শামিল হওয়া বেকুব মাত্র।
শাহবাগীর সঙ্গা হলঃ
শাহবাগী বলতে সেই সব অফলাইন কিংবা অনলাইন একটিভিস্টদের বুঝায় যারা চেতনে কিংবা অবচেতনে আওয়ামী রাজনীতির সাপোর্টার।
ব্যাখ্যাঃ
এবার আসুন আমরা বিশ্লেষণ করি, এটা যথার্থ সঙ্গা হল কিনা।
এক. এই সঙ্গার দ্বারা শাহবাগে যায়নি কিন্তু আওয়ামী রাজনীতির সাপোর্টার এমন একটিভিস্টরাও শাহবাগী হিসেবে বিবেচিত হবে।
দুই. অনেকে শুধু ইসলাম বিদ্বেষীদের শাহবাগী বলতে চায়। এই সঙ্গা সেই সম্ভাবনাকেও নাকচ করে দেয়। কারণ শাহবাগীকে শুধু ইসলাম বিদ্বেষী হইলেই হবে না। তাকে অতি অবশ্যই আওয়ামী রাজনীতির সমর্থক হইতে হইবে।
তিন. অনেক গাণ্ডু মুমিন দাবি করতে পারেন যে, আমি তো শাহবাগে গেছিলাম। কিন্তু আমি আওয়ামী লীগ করি না। জ্বি আপনারাও এই সঙ্গা অনুযায়ী শাহবাগী হইয়া যান। কারণ এইখানে চেতনে কিংবা অবচেতনে শব্দ দুইটা ব্যবহার করা হইছে। আপনারা হইলেন অবচেতন আওয়ামী লীগ। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদরা অবশ্য সচেতন আওয়ামী লীগ।
চার. এই সঙ্গা দ্বারা আওয়ামী রাজনীতির সাপোর্টার কিন্তু অনলাইন কিংবা অফলাইন একটিভিস্ট নয় এমন সাধারণ ব্যক্তিরাও শাহবাগীর সঙ্গা থিকা বাদ পইড়া যায়।
পাঁচ. অনেক ছুপা জাতীয়তাবাদী এবং ছুপা মুমিন (লাইক শক্তি, ফজা পাগ্লা) এই সঙ্গা দ্বারা শাহবাগীর মধ্যে পড়ে যায়। কারণ এরা পরিচয় লুকাইয়া জাতীয়তাবাদী বা মুমিন্স সাজলেও এরা তলে তলে টেম্পু চালায় অর্থাৎ আওয়ামী রাজনীতির সমর্থক। এ প্রসঙ্গে আমার ডিজি টেস্ট বা দুর্বা ঘাস টেস্টের কথা উল্লেখ করা যায়। এই টেস্টের মাধ্যমে আমরা পরিচয় লুকানো লীগারদের পরিচয় বের করে ফেলতাম।
ছয়. এলা আওয়ামী লীগের ঘোর বিরোধী(!) বামপন্থীরাও দাবি কর্তারে যে তারা লীগের রাজনীতি সাপোর্ট করে না। সুতরাং তারা শাহবাগে গেলেও শাহবাগী না। জ্বি না ভাইজান! আপনারা স্বীকার না করলেও পুরা বাংলাদেশ জানে, আপনারা আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগ অর্থাৎ আওয়ামী রাজনীতির সমর্থক।
উপসংহারঃ সার্বিক বিবেচনায় এটাই হল শাহবাগীর আসল সঙ্গা। সুতরাং শাহবাগী শব্দটাকে নানাভাবে এবিউজ করে নিজস্ব ফায়দা হাসিলের ধান্ধা থেকে বিরত থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top