আফগানিস্তান, পশ্চিমা মিডিয়া

আফগানিস্তান পশ্চিমা মিডিয়ার নির্মিত বাস্তবতায়

আফগানিস্তান—যুদ্ধ, দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত একটি দেশ—বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক ও আরব মিডিয়ার একটি নিয়মিত আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এই আলোচনার ধরন ছিল সংকটময় মুহূর্ত-নির্ভর: বোমা হামলা, যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি কিংবা সেনা প্রত্যাহারের সময়। এর বাইরে আফগানিস্তানকে দেখানো হয়েছে একপাক্ষিক, সংকুচিত এবং বহুক্ষেত্রে প্রপাগান্ডামূলক এক রূপে।

একটি স্টেরিওটাইপড চিত্র

আফগানিস্তানের প্রতি মিডিয়ার মনোযোগ বরাবরই আবদ্ধ থেকেছে একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যপটের মধ্যে: শিশুর হাতে রাইফেল, কাঁদতে থাকা পর্দানশীন নারী এবং পাহাড়ের চূড়ায় অস্ত্রধারী যোদ্ধা। এই চিত্রটি বাস্তবতার একটি খণ্ডাংশ হলেও, তা আফগান সমাজ ও ইতিহাসের বহুমাত্রিক জটিলতা এবং বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে।

৯/১১ ও মিডিয়া আখ্যানের আমূল পরিবর্তন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা ছিল একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা, যা আফগানিস্তান সংক্রান্ত পশ্চিমা মিডিয়া কাভারেজে আমূল পরিবর্তন আনে। মার্কিন মিডিয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ আখ্যার মাধ্যমে তালেবান ও আল-কায়েদার আশ্রয়স্থল হিসেবে দেশটিকে চিত্রিত করে।

এই আখ্যানে ইসলামকে সন্ত্রাসের সাথে সরাসরি যুক্ত করা হয়, উপেক্ষা করা হয় বহু দশকের বিদেশি হস্তক্ষেপ, উন্নয়নের ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা—যা আফগান সমাজের ভঙ্গুরতা সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

দ্বৈত বিশ্বদৃষ্টি ও জনমত গঠন

কাবুলের কারদান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, মিডিয়ার এমন কাভারেজ একটি দ্বৈত বিশ্বদৃষ্টি গড়ে তোলে—একদিকে ‘ভালো’ পশ্চিমা শক্তি, অন্যদিকে ‘খারাপ’ প্রতিপক্ষ। জর্জ বুশের বিখ্যাত বক্তব্য ‘হয় আপনি আমাদের সাথে, নয়তো সন্ত্রাসীদের সাথে’ এই বিভাজনের রাজনৈতিক প্রতিফলন।

২০০৬ সালে ক্লিভল্যান্ডে দেয়া এক ভাষণে বুশ ৫৪ বার ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি উচ্চারণ করেন—যা মিডিয়ার আখ্যানকে আতঙ্ক ও সহানুভূতির দ্বৈত আবেগে প্রভাবিত করে।

নারীর অধিকার : নৈতিকতা না প্রোপাগান্ডা?

তালেবান শাসনের সময় পর্দানশীন নারীর ছবি ব্যবহার করে ‘অন্ধকার যুগ’ দেখানোর মাধ্যমে মানবিক সংকটকে সামরিক হস্তক্ষেপের ন্যায়িক ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা হয়। নারীদের অধিকারকে মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার বানিয়ে তুলে ধরা হলেও, প্রকৃতপক্ষে গ্রামীণ ও বাস্তব আফগান নারীর কণ্ঠস্বর নীরব করে দেয়া হয়।

আফগান গবেষক আব্দুল শহীদ মায়ারের মতে, বুশ প্রশাসন দুটি সমান্তরাল আখ্যান চালু করে—একটি রাজনৈতিক, অন্যটি মানবিক। উভয় আখ্যানের লক্ষ্য ছিল জনমতের সমর্থন আদায়।

মার্কিন ফার্স্ট লেডি লরা বুশও এই প্রচারণায় অংশ নেন। তবে গবেষকেরা একে নারীর অধিকার রক্ষার আন্তরিক প্রচেষ্টা না বলে রাজনৈতিক শোষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন

এডওয়ার্ড সাইদের প্রাচ্যবাদ তত্ত্ব অনুসারে, মিডিয়া মুসলিম “অন্য”-কে অক্ষম ও পরনির্ভর হিসেবে উপস্থাপন করে, যাদের নিজস্ব বাস্তবতা প্রকাশের সুযোগ নেই। মিডিয়া একটি নির্ধারিত আখ্যান তৈরি করে, যা প্রকৃত কণ্ঠস্বরকে চাপা দেয়।

দখলদারিত্বকালে মিডিয়ার ভূমিকা

দুই দশকের মার্কিন উপস্থিতির সময়, পশ্চিমা মিডিয়া নির্বাচনী প্রাধান্য অনুসারে কাভারেজ করেছে। স্কুল নির্মাণ, নারী উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্পের মত ‘ইতিবাচক’ গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বিপরীতে, দুর্নীতি, রাজনৈতিক বর্জন, বিদেশি সেনাদের লঙ্ঘন কিংবা গ্রামাঞ্চলের সংকট উপেক্ষিত থেকেছে।

২০০৯ সালের কুন্দুজ বোমা হামলার খবর—যেখানে শিশুসহ বেসামরিক লোকজন নিহত হন—পশ্চিমা মিডিয়া ‘তালেবান নিধনে সফলতা’ হিসেবে শিরোনাম করে। বেসামরিক প্রাণহানির তথ্য শুধু অভ্যন্তরীণ পাতায় ও দ্বিধাগ্রস্ত ভাষায় প্রকাশ পায়।

২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আমেরিকা ১৩,০০০-এর বেশি ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে আনুমানিক ১০,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এসব তথ্য মূলধারার সংবাদে তেমনভাবে ঠাঁই পায়নি। সিআইএ-এর গোপন কারাগার ও নির্যাতনের সংবাদও দীর্ঘদিন চাপা থাকে।

প্রত্যাহারের সময়কার কাভারেজ

২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন বাহিনীর বিশৃঙ্খল প্রত্যাহারের সময় আন্তর্জাতিক মিডিয়া কেবল কাবুল বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কময় পরিস্থিতির চিত্র দেখিয়েছে।

তবে, আফগানিস্তানে পশ্চিমা প্রকল্পের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক পতনের মূল কারণ এবং সামরিক পরিণতির বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন অনুপস্থিত ছিল। মিডিয়া বরং একে অভ্যন্তরীণ আফগান ব্যর্থতা হিসেবে চিত্রিত করে পাশ কাটিয়ে গেছে।

আফগানিস্তানকে ঘিরে আরব ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া কভারেজের সংকট

আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক মিডিয়া কাভারেজের কেন্দ্রে থাকলেও, এই কভারেজের প্রকৃতি ও গভতা নিয়ে বহু বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন। রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিচার্ড লেইশম্যানের মতে, আফগান সংকটের কভারেজ ছিল খুবই সংকীর্ণ; মূলত আফগানদের দেশত্যাগের চেষ্টা এবং বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলার দৃশ্যেই সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন, “গত ২০ বছরে কী ঘটেছে তার প্রকৃত চিত্র এতে প্রতিফলিত হয়নি।”

আরব মিডিয়ার প্রতিধ্বনিমূলক ভূমিকা

১১ সেপ্টেম্বর-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানের ঘটনাপ্রবাহে আরব মিডিয়ার ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বস্তুনিষ্ঠ কভারেজের কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও, বেশিরভাগ আরব মিডিয়া আন্তর্জাতিক বা পশ্চিমা আখ্যানের পুনরাবৃত্তিতে সীমাবদ্ধ ছিল, যা প্রায়শই যাচাই বা সমালোচনামূলক বিশ্লেষনবিহীন ছিল। আফগানিস্তানের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগসমূহের কণ্ঠস্বর চেপে গিয়ে, এই মিডিয়া কাভারেজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল একমুখী এবং প্রভাবিত।

আফগান লেখক আবদুল্লাহ কাজিজাদেহ একে “আফগানিস্তানের কভারেজে আরব মিডিয়ার স্বাধীনতা না থাকা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, “আল জাজিরা সহ বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ মিডিয়া হয় পশ্চিমা আলোচনার অধীন ছিল, নয়তো আঞ্চলিক রাজনৈতিক এজেন্ডার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।”

রাজনীতিকরণ ও একচোখা দৃষ্টিভঙ্গি

আফগান সংকটকে আরব মিডিয়ার একাংশ কখনো আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর দোষারোপে ব্যবহার করেছে, আবার কেউ কেউ আফগানিস্তানকে আমেরিকান হস্তক্ষেপের ব্যর্থতার নিদর্শন হিসেবে দেখাতে চেয়েছে। কিছু প্ল্যাটফর্ম তালেবান ও মুজাহিদিনদের “রাজনৈতিক ইসলামের হুমকি” হিসেবে চিত্রিত করেছে, অপরদিকে অন্যরা তালেবানকে এক “পরিবর্তিত মধ্যপন্থী আন্দোলন” হিসেবে তুলে ধরেছে।

এই দানবীকরণ ও অতিমাত্রায় মসৃণকরণের মাঝখানে হারিয়ে গেছে ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ, বাস্তবতাভিত্তিক গবেষণা এবং পেশাদার সাংবাদিকতা। আফগান সংকটকে একটি বাস্তব সমস্যার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

হ্রাসবাদ ও স্টেরিওটাইপের জাল

আফগান সমাজকে শুধুই ‘জল্লাদ বনাম ভুক্তভোগী’ এই দ্বিমাত্রিক আখ্যানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। তালেবান এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘জল্লাদ’ আর নারী, শিশু ও শরণার্থীদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করে, আফগান সমাজের প্রকৃত বৈচিত্র্য—যেমন নাগরিক সমাজ, যুব, নারী, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কারবাদীদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রান্তিককরণ এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। বিবিসির কাবুল প্রতিনিধি নূরুল্লাহ সাফি (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমরা বাস্তবতা জানি, কিন্তু শেষ কথা লন্ডন বা ওয়াশিংটনের সম্পাদকের।’ ফলে বিদেশ থেকে আসা তথাকথিত “প্যারাট্রুপার সাংবাদিকেরা” স্থানীয় বাস্তবতা না জেনেই আখ্যান নির্মাণ করে চলেছেন, যার ফলে প্রতিবেদনগুলো হয়ে উঠছে পূর্বধারণাসম্পন্ন ও অতিসরলীকৃত।

তালেবান শাসন: একমুখী চিত্র এবং অপূর্ণ তথ্য

বর্তমান তালেবান শাসনের অধীনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন যেমন সহিংসতা হ্রাস, মাদক পাচার কমে যাওয়া, অর্থনৈতিক সূচকে স্থিতিশীলতা – এইসব বিষয়ে বহু আন্তর্জাতিক ও আরব গণমাধ্যম নীরব থেকেছে। গবেষক আবদুল্লাহ আরিফের মতে, ‘মানবাধিকার ইস্যুতে তালেবানকে যথাযথ সমালোচনা করলেও, এই ধরনের তথ্য ন্যায্য বিশ্লেষণের স্বার্থে তুলে ধরা প্রয়োজন।’

অন্যদিকে, কিছু ইসলামপন্থী আরব মিডিয়া তালেবানকে অতিরিক্ত সহানুভূতির চোখে দেখছে। তারা উপেক্ষা করছে তালেবানের মৌলিক সীমাবদ্ধতা যেমন—সংবিধানের অভাব, নির্বাচনের অস্বীকার, একচেটিয়া ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অভাব। মানবাধিকারকর্মী মরিয়ম মাহমুদি একে ‘মাঠের তথ্যের বদলে সরকারী বর্ণনা গ্রহণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠের কণ্ঠস্বর অনুপস্থিত

আফগান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ সবচেয়ে উপেক্ষিত দিক হলো—একটি তৃতীয় কণ্ঠস্বরের অস্তিত্ব। এই কণ্ঠস্বর তালেবান কিংবা আগের পশ্চিমাপন্থী প্রশাসনের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি শান্তিপূর্ণভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও সংস্কারমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।

এই আন্দোলনের অগ্রভাগে রয়েছেন শরিয়া পণ্ডিত, নাগরিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা। সাংবাদিক শামস রহমানি তাদের ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘আমরা দেশের ভার বহন করি এবং মেরুকরণ ও বিভক্তির বাইরে একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চাই।’ এই কণ্ঠস্বরকে অবজ্ঞা করা কেবল মিডিয়ার সীমাবদ্ধতাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গিকেও সংকুচিত করে।

আফগান ইস্যুতে মিডিয়ার নৈতিক ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ

আফগানিস্তানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ও আরব মিডিয়ার কভারেজ দীর্ঘদিন ধরেই আদর্শিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে মুক্ত নয়। এই কভারেজে ভারসাম্যের অভাব, সংবাদ কক্ষে স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি এবং সহজ স্টেরিওটাইপের উপর নির্ভরশীলতা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।

এই সীমাবদ্ধতাগুলো একত্রে আফগান সমাজের জটিল বাস্তবতার একটি সরলীকৃত ও ভাসাভাসা চিত্র উপস্থাপনে ভূমিকা রাখছে। ফলে আফগান জনগণের নানামাত্রিক অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ বিশ্ববাসীর কাছে পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব কেবল খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তাদের কর্তব্য হলো বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা, স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য আরও বেশি জায়গা করে দেওয়া এবং প্রচলিত বর্ণনার বিরোধিতায় সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা।

হেরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়ার প্রাক্তন অধ্যাপক ও আফগান সাংবাদিকদের সুরক্ষা সংস্থার সহ-সভাপতি বসির আহমেদ দানেশিয়া আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা গুরুতর ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আজ আফগান সাংবাদিকরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার অভাবের কারণে বর্ধিত চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের একটি বিশাল সংখ্যক দেশ ছেড়ে যেতে বা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, যা স্থানীয় মিডিয়ার দৃশ্যপটে স্বাধীন উপস্থিতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।’

ফলে আফগানিস্তানের একটি ব্যাপক চিত্র উপস্থাপনে গণমাধ্যমের ব্যর্থতা শুধুই একটি পেশাগত ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি চলমান জ্ঞানতাত্ত্বিক অবিচারের অংশ। এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন বিশ্বাস পুনর্গঠন, স্থানীয় সাংবাদিকদের স্বাধীনতার পরিসর প্রসারিত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক হয়ে থাকা কণ্ঠস্বরগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top