ট্রাম্প, গাজা পরিকল্পনা, হামাস, নেতানিয়াহু, সম্পাদকের বাছাই, ফিলিস্তিন, ইজরায়েল

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনায় হামাসের জবাব, বিপদে পড়লেন নেতানিয়াহু

সাবিনা আহমেদ

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার ২০টি পয়েন্ট নীচে দিলাম, এবং প্রত্যেকটির জন্য হামাস এটাকে পুরোপুরি মেনেছে, না প্রত্যাখ্যান করেছে, নাকি শর্তসাপেক্ষে মেনেছে তা দিলাম।

নাম ইচ্ছা করে বদলে দিয়েছি। এই নাম থাকলে কর্তৃপক্ষ পোস্ট ডিলিট করছে। আমার এর আগের ২০ পয়েন্টের পোস্টটি এখন আর খুঁজে পাচ্ছি না। ।

ট্রাম্প পিস প্ল্যানের ২০ পয়েন্টস:
১) গাজা একটা অ-কট্টরপন্থী, সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হবে যা তার পাড়া-প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি হবে না।
স্ট্যাটাস: শর্তসাপেক্ষে মেনেছে (হামাস পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেনি, কিন্তু তাদের শান্তি এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টি চায়)।

২) গাজা গাজার লোকজনের ভালোর জন্য পুনর্গঠন করা হবে, যারা অনেক কষ্ট সহ্য করেছে।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস পুনর্নির্মাণকে স্বাগত জানিয়েছে)।

৩) দু’পক্ষ যদি এই প্রস্তাব মেনে নেয়, যুদ্ধ ততক্ষণাত বন্ধ হবে। ইসরায়েলি বাহিনী জিম্মি ছাড়ার জন্য সম্মত লাইনে সরে যাবে, এবং সমস্ত সামরিক অপারেশন বন্ধ হবে।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত)।

৪) ইসরায়েল এই চুক্তি পাবলিকলি মেনে নেয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মি, জীবিত বা মৃত, ফেরত দেয়া হবে।
স্ট্যাটাস: শর্তসাপেক্ষে মেনেছে (হামাস জিম্মি ছাড়তে রাজি, কিন্তু প্রিজনার এক্সচেঞ্জ ফর্মুলা অনুসারে, ৭২ ঘণ্টা টাইমলাইন না মেনে)।

৫) সব জিম্মি ছাড়ার পর, ইসরায়েল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি লাইফ সেন্টেন্স কয়েদি এবং অক্টোবর ৭, ২০২৩ পরবর্তী গ্রেফতারকৃত ১,৭০০ জন গাজানদের ছেড়ে দেবে, সেই সাথে ছেড়ে দিবে সব নারী এবং শিশু।
স্ট্যাটাস: শর্তসাপেক্ষে মেনেছে (হামাস প্রিজনার এক্সচেঞ্জ ফর্মুলা চায়, কিন্তু এই সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি)।

৬) সব জিম্মি ফেরতের পর, হামাস সদস্যরা যারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং অস্ত্র ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের ক্ষমা দেয়া হবে। যারা গাজা ছেড়ে যেতে চায়, তাদের নিরাপদ প্যাসেজ দেয়া হবে।
স্ট্যাটাস: প্রত্যাখ্যান করেছে (হামাস অস্ত্র ছেড়ে দেয়া বা ডিজলভ্ড হওয়া মেনে নেবে না ইসরায়েলি সেনা গাজা এবং ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক থেকে পুরোপুরি সরে না যাওয়া পর্যন্ত)।

৭) চুক্তি মেনে নেয়ার পর, গাজায় পুরোপুরি সাহায্য পাঠানো হবে, যা নিদেনপক্ষে জানুয়ারি ১৯, ২০২৫ চুক্তির মতো হবে।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস সাহায্য প্রবেশকে স্বাগত জানিয়েছে)।

৮) সাহায্য বিতরণে কোনো পক্ষ হস্তক্ষেপ করবে না, এবংএইড বিতরণ করবে ইউএন, রেড ক্রিসেন্ট।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস এতে রাজি)।

৯) গাজা একটা টেকনোক্র্যাটিক, অরাজনৈতিক প্যালেস্টাইনিয়ান কমিটির অধীনে অস্থায়ী শাসন চলবে, যার তত্ত্বাবধানে থাকবে ট্রাম্প এর নেতৃত্বে “বোর্ড অফ পিস” সাথে টনি ব্লেয়ার।
স্ট্যাটাস: শর্তসাপেক্ষে মেনেছে (হামাস প্যালেস্টাইনিয়ান টেকনোক্র্যাট লিড বডি চায়, কিন্তু টনি ব্লেয়ার বা বিদেশী হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে)।

১০) ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গাজা পুনর্গঠনের জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেল দিয়ে তৈরি হবে।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস পুনর্নির্মাণকে সমর্থন করে)।

১১) একটা বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি হবে, অংশগ্রহণকারী দেশের সাথে স্বল্প ট্যারিফ নেগোসিয়েট করা হবে।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস অর্থনৈতিক উন্নয়নকে স্বাগত জানিয়েছে)।

১২) কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না, যারা যেতে চায় তারা যেতে পারবে এবং ফিরে আসতে পারবে।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস জোর করে বিতাড়িত না করার কথা সমর্থন করে)।

১৩) হামাস এবং অন্যান্য গ্রুপ গাজার শাসনে কোনো ভূমিকা রাখবে না, সব সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে, গাজা নিরস্ত্রীকরণ হবে।
স্ট্যাটাস: প্রত্যাখ্যান করেছে (হামাস নিরস্ত্রীকরণ এবং দ্রবীভূত হওয়া মেনে নেবে না ইসরায়েলি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত, এবং তারা জাতীয় ঐক্যমতে অংশ নিতে চায়)।

১৪) আঞ্চলিক অংশীদারদের দিয়ে গ্যারান্টি দেয়া হবে যে হামাস তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং নতুন গাজা হুমকি হবে না।
স্ট্যাটাস: শর্তসাপেক্ষে মেনেছে (হামাস আরব এবং ইসলামিক বিশ্বের সমর্থন চায়, কিন্তু তাদের অধিকারের গ্যারান্টি থাকতে হবে)।

১৫) যুক্তরাষ্ট্র, আরব এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) তৈরি করবে গাজায় ততক্ষণাত ডেপ্লয়ের জন্য।
স্ট্যাটাস: প্রত্যাখ্যান করেছে (হামাস আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী মেনে নেবে না, তারা একে বিদেশী হস্তক্ষেপ মনে করে)।

১৬) আইএসএফ প্যালেস্টাইনিয়ান পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা গ্যারান্টর হবে যতক্ষণ না প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি রিফর্ম করে নেয়।
স্ট্যাটাস: প্রত্যাখ্যান করেছে (হামাস বিদেশী বাহিনী প্রত্যাখ্যান করে)।

১৭. ইসরায়েল গাজা দখল বা annex করবে না, এবং আইডিএফ ধীরে ধীরে অঞ্চল হ্যান্ডওভার করবে।
স্ট্যাটাস: শর্তসাপেক্ষে মেনেছে (হামাস পুরোপুরি প্রত্যাহার চায়, কিন্তু এটাকে স্বাগত জানায়)।

১৮) যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইনিয়ানদের মধ্যে ডায়ালগ স্থাপন করবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনৈতিক হরাইজনের জন্য।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস মধ্যস্থতা এবং আলোচনা চায়)।

১৯) প্যালেস্টাইনিয়ানদের গাজা থেকে জোর করে বিতাড়িত করা হবে না।
স্ট্যাটাস: পুরোপুরি মেনেছে (হামাস এটাকে সমর্থন করে)।

২০) পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের পুরো শক্তি দিয়ে সমর্থিত হবে, না মানলে গুরুতর পরিণতি হবে।
স্ট্যাটাস: শর্তসাপেক্ষে মেনেছে (হামাস পরিকল্পনায় সংশোধন চায়, কিন্তু ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে)।

ট্রাম্প অল ২০ পয়েন্টের বিনা শর্তে মানতে নির্দিষ্ট সময় সীমা দিয়েছিলো। ওসব নেগোসিয়েশনের জন্যই বলেছিল।
ট্রাম্প আজ অলরেডি ইজরায়েলকে বম্বিং বন্ধ করতে বলেছে। এবং এসব শর্ত নিয়ে আলোচনায় বসবেন বলে ধারণা করছি।

ট্রাম্প হামাসের উত্তরকে ইতিবাচক দেখে ‘পিসের জন্য প্রস্তুত’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ইসরায়েলকে থামতে বলেছেন, যদিও নেতানিয়াহু এটাকে প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখছে। বল ব্যাক টু নাতনীয়াহু । জমেছে ভালো।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top