শাতমে রাসূল, শাতিম

শব্দ চয়নে অসতর্কতা কি শাতমে রাসূলের শামিল

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

কাউকে শাতিম বলে অভিযোগ করার আগে খুব ভালো করে যাচাই-বাছাই এবং বিবেচনা করে নেয়া উচিত। হুটহাট যেকোনো ঘটনাতে শাতমের অভিযোগ দাঁড় করানো খুবই ভয়ঙ্কর একটি ব্যাপার। সম্প্রতি যার নমুনা আমরা দেখলাম।

মনে রাখতে হবে, কখনো যদি শব্দচয়নের অসাবধানতা অথবা জাহালতের কারণে এমন কোনো সম্বোধন নবীদের ব্যাপারে কেউ করে ফেলে, যেটা তার শান এর খেলাফ; কিন্তু ওই ব্যক্তির নবীজিকে অপমান অথবা অসম্মান করার কোনো ইচ্ছা ছিল না এবং নবিজির প্রতি তার কোনো ঘৃণা বা বিদ্বেষও নেই, তাহলে তাকে শাতিম বলার সুযোগ নেই। একে সর্বোচ্চ আদবের খেলাফ, শানের পরিপন্থী বলা যেতে পারে এবং তাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক ও সংশোধন করা যেতে পারে।

শব্দ চয়নে অসতর্কতা বা সম্বোধনে শান রক্ষা না করা- শুধু এতটুকু বিষয় শাতম হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো সূরা নুরের ৬৩ নং আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে, ‘তোমরা পরস্পরকে যেভাবে ডাকো রাসূলকে সেভাবে ডেকো না’। এর কারণ হলো, কোনো কোনো সাহাবী গ্রাম থেকে দরবারে নববীতে আগমন করার কারণে নবীজির শান মোতাবেক সম্বোধন না করে সরাসরি নাম ধরে ডাকতো হে মুহাম্মাদ! বলে। ফলে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে সতর্ক করে দিয়েছেন তাদেরকে। এটাকে এমন গুরুতর কোনো অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেনি, যার শাস্তি হবে রক্ত। কারণ তারা কেউই নবিজীর সম্মানহানি করতে চায়নি। তাদের অজ্ঞতা বা অসাবধানতা কিংবা না-বুঝের কারণে এটা ঘটেছিল। শাতমের যতগুলো ঘটনা আমরা নববী যুগে বা তৎপরবর্তী যুগে দেখে থাকি, সবখানেই নবীজিকে অসম্মান করা কিংবা তার প্রতি অশ্রদ্ধা-বিদ্বেষ ইত্যাদির উপস্থিতি ছিল।

এখন কেউ যদি নিজের জাহালাতের কারণে এমন বিষয়গুলোকেও শাতম ধরে নিয়ে নবিজীর ভালোবাসার নাম করে কোনো অঘটন ঘটিয়ে থাকে, তাহলে তার কাজের প্রশংসা করা বা প্রশ্রয় দেয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। বরং শক্তভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। কেননা এর মাধ্যমে সমাজে অরাজকতা বৃদ্ধি ছাড়া অন্য কিছুই হবে না।

চাঁদপুরের এক ইমামের শব্দ চয়নের ভুলের কারণে অন্য আরেক জাহেলের তাকে কোপানোকে কেউ কেউ প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখছে। এটা খুবই গর্হিত বিষয়। মনে রাখবেন শুধুমাত্র নিয়ত ভালো হওয়া কারো কাজের পক্ষে সাফাই গাওয়ার দলিল হতে পারে না। যদি তাই হতো, তাহলে বেদআতিরা সবচেয়ে বড় প্রশংসার দাবিদার হতো। কারণ দ্বীনের প্রতি মহব্বত থেকেই তারা বিদআত করে থাকে। তাদের নিয়ত ভাল থাকে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কর্মপন্থা ভুল হবার কারণে সেই কাজ নিকৃষ্ট হিসেবে বিবেচিত হয় আল্লাহর দরবারে।

লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে নেয়া

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top